যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি॥ শতভাগ বিক্রেতার কোন অনুমতি নেই নারায়ণগঞ্জে ভয়ংকর মৃত্যুর ঝুকি

0
10

আবু সাঈদ কাদেরী : নারায়নগঞ্জে যএতএ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে । জেলাার কমপক্ষে শত ভাগ দোকানের কোন অনুমতিপত্র নেই । সাতটি থানা এলাকায় ব্যবহার স্থলেও কোন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই । ফলে পুরো জেলা ভয়ংকর ঝুকির মধ্যে রয়েছে । যে কোন সময় পাকিস্তানের মতো প্রানহানী ঘটার আশংকা রয়েছে । প্রশাসনকে আইন প্রয়োগের জন্য দাবী উঠেছে ।
পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান এলাকায় ৩১ অক্টোবর রেল গাড়ীতে ইলিয়াস মেওয়াতির তাবলীগ পন্থিরা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরন ঘটে । ওই ঘটনায় পায় ৮০ জন মারা গেছে । বাংলাদেশের মিরপুর রূপনগর এলাকায় ৩০ অক্টোবর বেলুন ফুলানোর সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত শিশু মারা যায় । চট্রগামের আনোয়ারায় সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৭দিন আগে এ্যাম্বুলেন্সের তিন আরোহীর মৃত্যু হয় । দেশ- বিদেশে মাঝেমধ্যে এমন ভয়ংকর নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে । নারায়নগঞ্জ সেই আশংকার বাইরে নয় ।
নারায়ণগঞ্জে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারজাত গ্যাস বিক্রি ও ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে । জেলায় বাড়ী , বেকারী , রেস্তোরা এমনকি ছোট চায়ের দোকানেও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে । ওইসব স্থানের জন্য মুদি দোকান , পান – চায়ের দোকান , তেলের দোকান থেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে সংশ্লিষ্টরা ব্যবহার করছে । শুধু তাই নয়, ওইসব দোকানীরা একটি মোটর সাইকেলে ৬ অথবা ৮ টি গ্যাস সিলিন্ডার বেধে বিভিন্ন স্হানে সরবরাহের জন্য যায় । জেলা জুড়ে এভাবেই গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, বিক্রি , সরবরাহ , ব্যবহার হচ্ছে । সাতটি থানা এলাকায় ১৫টির মতো গ্যাস সিলিন্ডারের এজেন্ট বা ডিলারশীপ দোকান রয়েছে । পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান , বাংলাদেশের মিরপুর ও আনোয়ারা এলাকায় ২০ দিনের মধ্যে পায় ৯০ জন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা যায়। ওই ঘটনাগুলোর পর নারায়নগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে আতংক শুরু হয়েছে। নগরীর বাসিন্দা কুদরত আলী বলেন , গ্যাস – বিদ্যুত যারাই উৎপন্ন করুক সরকারের কাছ থেকে কিনে ব্যবহার করতে হয়। গ্যাস সিলিন্ডারটিও সরকার অথবা এজেন্ট কিংবা ডিলারশীপ থেকে কেনার ব্যবস্থা নেই কেন ? দেশ-বিদেশের যেখানেই দূর্ঘটনা , মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে – সেখানকার তথ্য হলো : যএতএ পেয়ে কিনে নিয়ে ব্যবহারের সময় ভয়ংকর নির্মম ঘটনা ঘটছে ।
নারায়নগঞ্জও পাকিস্তান বা আমার দেশের ঢাকা, চিটাগাংয়ের মতো ভয়ংকর মৃত্যু ঝুকির মধ্যে রয়েছে। আড়াইহাজারের লাকড়ি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, সাতটি থানা এলাকার তেলের দোকান , পান সিগারেটের দোকান মুদি দোকানে বিক্রির জন্য জ্বালানী মন্ত্রনালয় ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই । এমনকি ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন লাইসেন্স নেই । এরপরও প্রকাশ্যে , বীরদর্পে ওইসব দোকান মেয়াদোর্ত্তীন সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে । ফতুল্লার গৃহকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন , যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে তাদের মতই আমরা যারা বাড়ী, রেস্তোরা, বেকারীতে ব্যবহার করছি আমাদের কারণেই কোন অনুমতিপত্র নেই । অনুৃমতিপত্র থাকলে ব্যবহার বিধি জানা থাকতো । আর দূর্ঘটনা একেবারেই কম হতো । এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে , জেলার কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার ৩ মাস পরপর পরীক্ষা , মেয়াদোর্ত্তীন সিলিন্ডার বাতিল ঘোষণার জন্য সরকারী সংস্থা নেই । কোন খুচরা দোকানীর কোন লাইসেন্স নেই । এমনকি ডিলারশীপ ও এজেন্টের লাইসেন্স , ছাড়পত্র নবায়ন নেই । শুধু তাই নয় , এজেন্ট ও ডিলারশীপের গুদাম , দোকানে মেয়াদোর্ত্তীন অসংখ্য সিলিন্ডার রয়েছে এবং তা বিক্রি হচ্ছে । অপর দিকে যএতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও ভয়ংকর দূর্ঘটনা রোধ করতে আইন প্রয়োগের দাবী উঠেছে। কলেজ ছাত্র কাউসার মাহমুদ ফাহিম বলেন , জেলায় ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর আছে । তারাসহ বিস্ফোরক অধিদপ্তর, জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অভিযানিক দল আলাদা কিংবা যৌথ ভাবে আইন প্রয়োগ করলে মৃত্যু ঠেকানো যাবে । জেলা প্রশাসনকে দায়ীত্ব নিয়ে অনাকাংখিত মৃত্যু ঠেকাতে হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here