উচ্ছেদ ঠেকাবে বলে ব্যবসায়ীদের অর্ধ কোটি টাকা মেরে দিলো বদু

0
10

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: গত জুলাই মাসের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় থান কাপড় মার্কেটে দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় রেলওয়ে। এ সময় প্রায় দেড় শতাধিক কাপড়ের দোকান গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে রেলওয়ের সাথে আপোসে গিয়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে থান কাপড়ের মার্কেটের উচ্ছেদ ঠেকানো যাবে- এমন কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে হোসিয়ারি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ক্যাডার বদিউজ্জামান বদুর বিরুদ্ধে। থান কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও তিনি। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি।
গত ২৯ জুলাই চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ে। এ সময় চাষাঢ়ায় অবস্থিত বাগান বাড়ি রেস্তোরাসহ বেশ কয়েকটি দোকান ও ভবনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর বেশ কয়েকদিন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকার পর গত ১৬ অক্টোবর নগরীর কালিরবাজার এলাকা থেকে এক নম্বর রেলগেইট পর্যন্ত প্রায় ৩ একর জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চালায় রেলওয়ে। পরদিন দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেঙ্গে ফেলা হয় থান কাপড়ের দোকানপাট। যদিও দোকানের ভেতরের মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা।
থান কাপড় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের পর থেকেই উদ্বেগে পড়েন দুই নম্বর রেলগেইট এলাকার থান কাপড় ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ীরা। গত জুলাইতে নারায়ণগঞ্জে ডাবল লাইন প্রকল্পের জন্য উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে আবারও বৈঠক করেন তারা। ‘রেলওয়ের সাথে আপোসে গিয়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে থান কাপড়ের মার্কেটের উচ্ছেদ ঠেকানো যাবে’ ব্যবসায়ীদের এমনটা আশ্বাস দেন বদিউজ্জামান বদু।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, উচ্ছেদ ঠেকানোর কথা বলে থান কাপড় মার্কেটের সাড়ে ৪শ’ দোকানির কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা তোলেন বদিউজ্জামান বদু। সে হিসেবে ৪৫ লাখ টাকা বদুকে দেয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ থামানো যায়নি। গত ১৭ অক্টোবর রেলওয়ের জমিতে থান কাপড়ের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ৩১ অক্টোবর ফের উচ্ছেদন অভিযান চালায় রেলওয়ে। টাকা দিয়েও উচ্ছেদ বন্ধ করতে না পারায় ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, বদিউজ্জামান বদু আমাদের বলেছিলেন, টাকা দিয়ে হোক আর যেভাবেই হোক উচ্ছেদ থামানো হবে। তার কথামতো আমরা ১০ হাজার করে টাকাও দিছি। সাড়ে ৪শ’ ব্যবসায়ীর সবাই টাকা দিছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ ঠেকানো গেলো না। পুরো টাকাই জলে গেলো।
এ বিষয়ে বিএনপির ক্যাডার বদিউজ্জামান বদু বলেন, ‘এসব মিথ্যা প্রচারণা। আমি কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেই নাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here