না’গঞ্জে নেই দূর্ণীতি বিরোধী অভিযান, তবুও অনেকের মাঝে অস্বস্তি

0
12

শীতলক্ষা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ জেলায় তেমন কোনো দূর্ণীতি বিরোধী অভিযান নেই, কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন পর্যায়ের দূর্ণীতিবাজদের মাঝে এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখন কার বিরুদ্ধে অভিযান হয় সেই দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসেছে দূর্ণীতিবাজদের। এই শহরে এমন অনেক চিকিৎসক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ এবং সরকারী চাকুরীজীবী রয়েছেন যারা নাকি বহু কোটি টাকার মালিক বনে বসে আছেন। নিজের নামে ও স্ত্রীর নামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। কোটি টাকার গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাজধানীতেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্লাট সহ বিপুল সম্পদ। তাই এসব দূর্ণীতিবাজদের ভেতরে এখন চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পরেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে ভালো নেই সরকারী দলের অনেক নেতা। বিশেষ করে যারা নামে বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্রমতে জানা গেছে সম্প্রতি এক বিয়ের অনুষ্ঠানে জরো হন এই জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ। তারা নিজেদের মাঝে আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে সবাই স্বীকার করেন যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তারা বুঝতে পারছেন না। বিশেষ করে সরকার যে দূর্ণীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছে এই অভিযানের শেষ পরিনতি কি হয় এ নিয়ে তারা সবাই বেশ চিন্তিত। কারন তারা সবাই জানেন যে বিগত বছরগুলিতে দেশে যেমন ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তেমনি ব্যাপক দূর্ণীতিও হয়েছে। তার প্রমান হলো বালিশ পর্দা আর ঢেউটিন কান্ড। সম্প্রতি বিভিন্ন গনমাধ্যমে দূর্ণীতির যে চিত্র উঠে এসেছে তার রীতিমতো ভয়াবহ। কিন্তু দূর্ণীতি বিরোধী যে অভিযান শুরু হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত টেনে নেয়া সম্ভব হবে কিনা সেই প্রশ্ন রয়েছে। কোনো না, দেশে যে তিনশো এমপি আছেন তাদের কাউকে এখনো ধরা হয়নি। নারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলাম বাবুর নাম পত্রিকায় এসেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তাই এমপি মন্ত্রীদের যদি ধরা শুরু হয় তাহলে কি হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এছাড়া উপস্থিত নেতারা আরো মনে করেন, দেশে প্রধানত ঘুষ বানিজ্যটা করেন আমলারা। তাই দূর্ণীতিবাজ আমলাদের গায়ে যদি হাত দেয়া না যায় তাহলে দূর্ণীতি দমনে কাংখিত ফল আসবে না। উদাহরন স্বরুপ তাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন দূর্ণীতিবাজ জি.কে. শামীমকে গ্রেফতার করা হলো, কিন্তু যারা তার কাছ থেকে ঘুষ খেয়ে এতো বিপুল টাকার কাজ তাকে দিলো তাদের কাউকেতো ধরা হলো না। তাহলে দূর্ণীতি বন্ধ হবে কি করে। তবে তারা এটাও মনে করেন, দূর্ণীতি দমন যেহেতু একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই এর শেষ দেখার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে পরিনতি নিয়ে তারা সবাই চিন্তিত বলেই মতামত প্রকাশ করেন। তারা স্বীকার করেন যে পরিস্থিতি এখন এমন দাড়িয়েছে যে কম্বল বাঁছতে না আবার কম্বল উজার হয়ে যায়। এছাড়া দূর্ণীতিবাজরা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারকেই বেকায়দায় ফেলে দেয়ার দুশ্চিন্তাতো রয়েছেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here