ফলোআপ : “না’গঞ্জে আরো খোলা জায়গা দরকার”

0
12

শীতলক্ষা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ শহরে সরকারী জায়গায় একটি পার্ক নির্মান করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং ফতুল্লায় একটি মাঠ রক্ষার আন্দোলন করছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ। এই পার্কটি করতে গিয়ে মেয়রকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের বহু মানুষ। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন এই পার্ক ও মাঠতো রক্ষা করতেই হবে বরং আগামী প্রজন্মের জন্য এই শহরে আরো খোলা জায়গা দরকার। কেনোনা কেবলমাত্র ইট পাথরের মাঝে মানুষ ভালো মতো বেঁচে থাকতে পারে না। বেঁচে থাকতে দরকার হয় প্রচার গাছপালা, মাঠ, ঘাট, উদ্যান ইত্যাদি। তাই এখন রেলওয়ে এই পার্ক নিয়ে যে খেলা শুরু করেছে এই খেলার কোনো সুযোগই নেই বলে মনে করেন এই শহরের সর্ব স্থরের সাধারন মানুষ।
এদিকে মাঝে মেয়র আইভী ২০১১ সাল থেকে দেওভোগ বা জিমখানা লেকটি উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। কিন্তু তখন থেকেই এটা নিয়ে বাধাবিপত্তির মুখে পড়েন মেয়র আইভী। রেলওয়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন এবং গ্রেফতারও করেন। শেষ পর্যন্ত সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। মামলায় জিতে সিটি করপোরেশন। এছাড়া একটি জলাশয় রক্ষা আইনও রয়েছে সিটি করপোরেশনের পক্ষেই। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে মেয়র আইভী পার্ক নির্মান করার জন্য প্রায় অর্ধ শত চিঠি দিলেও রেলওয়ে সিটি করপোরেশনকে এই জায়গা হস্তান্তর করে নাই। বরং এর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই জায়গা বিক্রী করে দেয়ার জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলো। সিটি করপোরেশনের বাধার কারনে শেষ পর্যন্ত মহামূল্যবান এই জায়গা বিক্রী করতে পারে নাই রেলওয়ে। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে এই জায়গাটি যদি রেলওয়ে কোনো ব্যাক্তিবিশেষের কাছে বিক্রী করে দিতে পারতো তাহলে লাভবান হতো ওই ব্যাক্তি। ক্ষতিগ্রস্ত হতো জনগন। আর এখন পার্ক হওয়ায় এটি নারায়ণগঞ্জের জনগনের সম্পদে পরিনত হয়েছে। তাই যে যাই মনে করুক না কেনো এই পার্ক করায় লাভবান হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের জনগন। তাই এরই মাঝে পার্ক রক্ষার আন্দোলনও শুরু হয়ে গেছে এবং ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্থরের সাধারন মানুষ। যদিও এরই মাঝে রেলমন্ত্রী পার্কের স্থানে এসে পার্ক নতুন করে বর্ধিত করার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং দুইজন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছেন। তবে এরই মাঝে এই পার্কটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে শেখ রাসেলের নামে নামকরন করা হয়েছে। পার্ক নির্মানের পক্ষ্যে সব ধরনের ডকুম্যান্টই রয়েছে সিটি করপোরেশনের কাছে। তাই নারায়ণগঞ্জের জনগনের সেন্টিম্যান্ট এখন পূরোপূরোই এই পার্ক নির্মানের পক্ষে। এরই মাঝে মেয়র আইবী বলেছেন আমি পার্ক নির্মান করে দিয়েছি, এখন এটা রক্ষার দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জের জনগনের। তাই জনগনের প্রতিরোধের মুখে এখানে এসে রেলওয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলেই অধিকাংশ মানুষের ধারনা।
অপরদিকে একই ভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে একটি মাঠ রক্ষার আন্দোলন করে যাচ্ছেন শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ। তিনি আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষার আন্দোলন করছেন। সরকারের গনপূর্ত বিভাগ এই জায়গায় সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন নির্মান করতে চান। কিন্তু বহু বছরের পূরনো এই মাঠ কিছুতেই ভবন নির্মানের জন্য ছেড়ে দিতে রাজী নন পলাশ সহ আলীগঞ্জবাসী। তাই যখন প্রশাসন মাঠ দখল করার চেষ্ঠা করেছে তখনই পলাশের নেতৃত্বে আলীগঞ্জের মানুষ এই মাঠ রক্ষার জন্য ঝাপিয়ে পরেছেন। তাই এখন পর্যন্ত অটুট রয়েছে।
ফলে অনেকে মনে করেন পার্ক আর মাঠ রক্ষা হলে এর সুফল ভোগ করবে নারায়ণগঞ্জের জনগন। কারন এমনিতেই এই শহরে মাঠঘাট সহ খোলা জায়গা নেই বললেই চলে। তাই এখনই যদি এসব রক্ষা করা না যায় তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের নতুন প্রজন্ম কোথায় যাবে? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্তে এসব মাঠঘাট রক্ষা করতেই হবে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ শহর ও ফতুল্লার সচেতন মহল। শুধু এগুলোই নয়, আরো কিছু নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলাও জরুরী বলে মনে করেন সবাই এবং শহরের যেখানে সম্ভব প্রচুর গাছপালা লাগানোও জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই দুটি আন্দোলনে জনগনের ব্যাপক সমর্থনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় জনগন মনে করেন, এই শহরকে বাঁচাতে হলে আরো অনেক খোলা জায়গার প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here