টাকার সঙ্গে তারুণ্যের লড়াই

0
21

শীতলক্ষা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আরও কয়েক মাস বাকী রয়ে গেছে। তবে এখন থেকেই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। বিশেষ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারীরা বেশ জোরালোভাবেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আর এবারের নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে টাকার সঙ্গে জনপ্রিয় তারুণ্যের লড়াই হবে বলে মনে করছেন সাধারণ আইনজীবীরা। কারণ এবারের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্ব নেয়ার জন্য একটি পক্ষ বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা কতটুকু সফল হতে পারবেন সেটাই লক্ষ্যণীয় বিষয়।
সূত্র বলছে, আগামী বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ জানুয়ারীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর এবারের নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্যানেল গঠনে অপেক্ষা করছে জটিল সমীকরণ। কারণ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি প্রভাবশালী মহল সরব হয়ে উঠছে। যারা প্রত্যেকেই চেষ্টা করবেন তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের দিয়ে প্যানেল গঠন করবেন এবং তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে। এই বিজয় অর্জন করতে গিয়ে প্রয়োজন হলে বিপুল পরিমাণে টাকার লগ্নি করবেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়া। তারা টানা দুই মেয়াদ ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছেন। তাদের হাত ধরে আইনজীবী সমিতিতে ডিজিটালাজেশনের ছোঁয়া লেগেছে।
অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ৮ তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আর এই কাজের শুরু করতে গিয়ে তাদেরকে বহু বাধা বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ৮ তলা বিশিষ্ট ভবনের ১ম তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ হবে। ইতোমধ্যে আইনজীবীদের স্মার্ট, আইডি কার্র্ড ও ডাইরেকটরি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই দুই তরুণ আইনজীবীর উন্নয়নের মধ্য দিয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ১২’শ সদস্যের কাছে ডাইনামিক লিডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
এই দুইজনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন না। তার স্থলে সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়া সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। আর তার সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান কিংবা অন্য কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেন। অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার মেয়াদে আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন আগামী নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার পক্ষে কাজ করবে।
ফলে অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার প্যানেল থেকে আগামী নির্বাচনে আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেয়া খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে। আর এজন্যই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার নেতৃত্বে তরুণ প্যানেলকে আটকিয়ে দেয়ার জন্য একটি পক্ষ বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে মাঠে নামবেন। প্রয়োজনে তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন। যার সূত্র ধরে এবারের নির্বাচনে টাকার সঙ্গে জনপ্রিয় তারুণ্যের লড়াই হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়া ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু সভাপতি হিসেবে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিব আল মুজাহিদ পলু ও আলী আহমেদ ভূইয়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে থেকেও অনেকে নির্বাচন করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে জেলা আইনজীবী সমিতিতে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহা নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে গিয়ে শামীম ওসমানের সাথে বাহ্যিক মনোমালিন্য বিরোধ সৃষ্টি হয়। সমিতিতে শামীম ওসমান চান অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াকে নেতৃত্বে আনতে। ফলে সেবারের নির্বাচনে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দিপু ও খোকন সাহার পছন্দের অনেক প্রার্থীকেই প্যানেলভুক্ত করা হয়নি। শামীম ওসমান তার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে সভাপতি ও মোহসীন মিয়াকে সেক্রেটারী করেই প্যানেল গঠন করেন।
ওই নির্বাচনে সাবেক সেক্রেটারী হাবিব আল মুজাহিদ পলু সহ আরো কয়েকজনকেই বাদ দেওয়া হয়। অথচ আইনজীবী সমিতিতে একবার সেক্রেটারী হলে সাধারণত পরের বারও একই পদে কিংবা সভাপতি পদে লড়েন। কিন্তু পলুকে সে সুযোগ পায়নি। যদিও এর আগের কমিটিতে তিনি সেক্রেটারী ছিলেন। আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্ব নেন শামীম ওসমানের সমর্থিত অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়া। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৯-২০ নির্বাচনে আবারও বিপুল ভোটে পুরো প্যানেলের দাপুটে জয় পায় জুয়েল মোহসিন ও প্যানেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here